১
রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে ব্যান্ডেজের ভেতর থাকলে অজু ভাঙবে কিনা
ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে ব্যান্ডেজের ভেতরে থাকলে তার পরিমাণ অনুমান করবে। যদি এই পরিমাণ বের হয়েছে মনে হয় যে, ব্যান্ডেজের বাধা না থাকলে গড়িয়ে পড়তো তাহলে অজু ভেঙে যাবে। (আবু দাউদ ২৮৬, ইবনে মাজাহ ১২২১, ইমদাদুল ফাতওয়া ১/৬৬)
২
অজুতে দাড়ির সীমার বাইরে থাকা পশম ধোয়ার বিধান
অজুতে দাড়ির সীমার বাইরে থাকা পশম ধোয়া সুন্নাত। (ফাতাওয়া শামি ১/৯)
৩
মিসওয়াক কতটুকু লম্বা রাখা উচিত
মেসওয়াকের আকার কোন কোন আলেম (শুরুতে) এক বিঘত (আনুমানিক ৯ ইঞ্চি) রাখাকে উত্তম বলেছেন। তবে অধিক বিশুদ্ধ মত হলো, এর পরিমাণ নির্ধারিত নয়। (ফাতাওয়া শামী ১/১১৪, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ১/১৫৯)
৪
মিসওয়াক করার পদ্ধতি
মিসওয়াক ডান হাতে ধরবে। তবে কেউ কেউ বাম হাতে ধরার কথা বলেছেন। কনিষ্ঠ আঙ্গুল মেসওয়াকের নিচে থাকবে আর বৃদ্ধাঙ্গুল মেসওয়াকের মাথার অংশের নিচে থাকবে। বাকি আঙ্গুলগুলো দিয়ে মেসওয়াক ধরবে।
দাঁতের মধ্যে পাশাপাশি ও জিহ্বার মধ্যে লম্বালম্বিভাবে মেসওয়াক করবে।
প্রথমে উপরের চোয়ালের ডানপাশ, তারপর বামপাশ, অতঃপর নিচের চোয়ালের ডানপাশ, তারপর বামপাশ মিসওয়াক করবে।
কেউ কেউ ৩ বারের কথা বলেছেন, কিন্তু সহিহ হলো, মেসওয়াক যতক্ষণ ইচ্ছা করা যায়।(ফাতাওয়ায়ে শামী ১/১১৪)
৫
আঙ্গুল দিয়ে মেসওয়াকের সুন্নাত আদায় হবে কিনা
মেসওয়াকের সুন্নাত দুটি। এক: দাঁত পরিষ্কার করা। দুই: গাছের ডাল হওয়া। সুতরাং আঙ্গুল দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে একটি সুন্নাত আদায় হবে, আরেকটি হবে না। (মুসনাদে আহমাদ, ফাতাওয়ায়ে শামী ১/১১৫)
৬
ব্রাশ দিয়ে মিসওয়াকের সুন্নাত আদায় হবে কিনা
যেমনটা আমরা বলেছি মেসওয়াকের সুন্নাত দুটি। সে সূত্রে নিয়ত করে ব্রাশ করলে দাঁত পরিষ্কারের সুন্নাত পালন হবে। তবে গাছের ডাল হওয়ার সুন্নত আদায় হবে না। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/৮, ইমদাদুল মুফতীন ২৪২)
৭
অজুতে সাহায্য নেওয়া জায়েজ আছে আছে কিনা
অজুতে সাহায্য নেয়া দু’ভাবে হতে পারে। এক: পানি এনে দেওয়া বা পানি ঢেলে দেওয়া বা কল চেপে দেয়া। দুই: একেবারে হাত লাগিয়ে অজুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধুয়ে দেওয়া বা মাসাহ করে দেয়া।
প্রথম সুরত অর্থাৎ কেউ পানি এনে দিলে বা ঢেলে দিলে কিংবা কল চেপে দিলে সমস্যা নেই। তবে বিনা ওজরে দ্বিতীয় সুরত অর্থাৎ কেউ অজুর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ধুয়ে দিলে বা মাসাহ করে দিলে মাকরূহ হবে। (মুসলিম ২৯৯৫, ফাতাওয়া শামি ১/১২৬)
৮
অজুর সময় কথা বলা কি জায়েজ
অজুর সময় বিনা প্রয়োজনে দুনিয়াবি কথা বলা মাকরুহ। তবে প্রয়োজনীয় কথা বলা বা কোন দ্বীনি কথা বলা জায়েজ। (বুখারি, নং২০৬)
৯
রোগ পরীক্ষার জন্য সিরিঞ্জে রক্ত নেয়া হলে অজু ভাঙবে কিনা
রোগ পরীক্ষার জন্য সিরিঞ্জে যদি এই পরিমাণ রক্ত নেয়া হয় যা স্বস্থানে থাকলে গড়িয়ে পড়ত – অজু ভেঙ্গে যাবে। (আবু দাউদ ২৮৬, ইবনে মাজাহ ১২২১, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৩৪)
১০
নখের নিচের সাধারণ ময়লা (যেমন মাটি) পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় না। আমাদের হাতে পায়েও ময়লা থাকে। সেগুলো সহই আমরা অজু করি। সুতরাং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে যদি শুকনো মাটি অথবা আটা ইত্যাদি শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায় তাহলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। এই হুকুম তখন যখন নখ আঙ্গুলের মাথা থেকে বেশি বড় থাকবে। আর যদি নখ ও আঙ্গুলের মাথা সমান হয় তাহলে সমস্যা নেই। (সূত্র: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/৪, ফাতাওয়ায়ে শামী ১/২৮৮)
(এই দূর্বল লেখকের ব্যক্তিগত মত হলো, অযুতে যেভাবে ঠোঁটের ভেতরের অংশ ধোয়া জরুরি নয় একইভাবে নখ স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় তার নিচে পানি পৌঁছা জরুরী নয়। কিন্তু যদি নখ বড় থাকে তাহলে সেই বড় অংশের নিচে পানি পৌঁছানো জরুরী।)
১১
যাদের মাথা টাক তারা চেহারা কতটুকু ধুবে
চেহারার সীমানা শুরু হয় কপালের চুলের গোড়া থেকে। যাদের মাথায় টাক পড়ে গেছে তারা অধিকাংশ মানুষের কপালের চুলের গোড়া যেখানে থাকে সেখান থেকেই চেহারার সীমানা ধরবে। (বাদাঈউস সানাঈ ১/৬৬)
অজুর কোন অঙ্গ বাদ পড়ে গেলে করণীয়
যদি কেউ অজু করার সময় ভুলে কোনো অঙ্গ বাদ দেয় এবং পরবর্তীতে সেটি মনে পড়ে, তাহলে স্মরণে আসার পর শুধুমাত্র সেই অঙ্গটি ধুলেই চলবে। পুনরায় অজু করতে হবে না। (ইলাউস সুনান ১/১১৩, তাতারখানিয়া ১/৯২)
১২
মেকআপ অবস্থায় অজুর হুকুম
মেকআপ যদি অজুর অঙ্গগুলোর উপর এমন আস্তরণ তৈরি করে যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় তাহলে অজু হবে না। আর যদি পানি পৌঁছে যায় তাহলে অজু হবে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, অধিকাংশ মেকআপ পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় না।
নেলপলিশ ও লিপস্টিক লাগানো অবস্থায় অবস্থায় অজুর হুকুম
নেলপলিশ ও লিপিস্টিকের ক্ষেত্রেও একই কথা; যদি অজুর অঙ্গগুলোর উপর এমন আস্তরণ তৈরি করে যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় তাহলে অজু হবে না। আর যদি পানি পৌঁছে যায় তাহলে অজু হবে। আমরা শুনেছি, এগুলো পানি পৌঁছাতে বাঁধা দেয়। (ফাতাওয়ায়ে শামী ১/১৪৫, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/৪)
১৩
শরীর থেকে রঙ অথবা আঠা না উঠলে অজুর হুকুম
শরীরে রঙ অথবা আঠা লেগে থাকলে যদি তা অজুর পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে। তাহলে অজু হবে না। আর অজু না হলে নামাজও হবে না। সুতরাং এগুলো শরীর থেকে উঠানোর জন্য ভালোভাবে চেষ্টা করতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টার পরও যদি পুরোপুরি না ওঠে তাহলে যতটুকু উঠবে তাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত চেষ্টা করে ক্ষত সৃষ্টি করার প্রয়োজন নেই। এ অবস্থায় অজু করে নামাজ পড়তে পারবে। (আল জামিউস সগীর ১/৪, আদ দুররুল মুখতার ১/১৫৩, হাশিয়াতুত তাহতাহাভী আলাদ দুর ১/১৮৮)
১৪
অজুতে কৃত্রিম দাঁত খোলার হুকুম
অজুতে কুলি করা সুন্নাত। তাই যদি কারো মুখে কৃত্রিম দাঁত লাগানো থাকে তা অজুর সময় খোলা জরুরী নয়। এটা অনেকটা দাঁতে আটকে থাকা খাদ্যের মতো। (সূত্র: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/৬)
১৫
অজুর মাঝখানের দুয়া
অজুর মাঝখানে বেশ কিছু দোয়া পড়ার কথা হাদিসে ও ফতোয়ার কিতাবে এসেছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র একটি হাদিস সহীহ। বাকিগুলো দূর্বল, তবে সেগুলো সুন্নত মনে না করে পড়া যাবে।
ইমাম নাসাঈ তার আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলে (১৭২) একটি হাদিস এনেছেন, তাতে আবু মুসা আশয়ারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অজুর সময় এই দোয়া পড়তে শুনেছি
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعُ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِيمَا رِزْقِي
(আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল: নাসাঈ, ফাতাওয়ায়ে শামী ১/১২৭)
১৬
অজুর শুরু ও শেষে কোনো দুয়া আছে কিনা
অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ ও শেষে
أشہدُ أن لا الٰہ الا اللّٰہ وحدہ لا شریک لہ ، وأشہدُ أن محمداً عبدہ و رسولہ، اللّٰہم اجعلنی من التوابین واجعلنی من المتطہرین
পড়া সুন্নাত।
অজু শেষের আরেকটি দোয়া হলো
سبحانك الله وبحمدك، أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك، وأتوب إليك
(প্রাগুক্ত)
১৭
অজুর পর দরুদ শরীফ পড়ার বিধান
ওযুর পর দরুদ শরীফ পড়ার কথা কোন কোন ফতোয়ার কিতাবে এসেছে। তবে এই দূর্বল লেখক যতটুকু জানতে পেরেছে যে, অজুর শেষে দরুদ পড়া সংক্রান্ত হাদিসটি জাল। শিয়াদের কিতাব ছাড়া কোথাও এটি পাওয়া যায় না। সুতরাং এই হিশেবে অজুর শেষে দরুদ পড়াকে দ্বীনের অংশ মনে করা বিদাত হবে। তবে দরুদ যেহেতু সবসময় পড়া যায়, তাই কেউ দ্বীনের অংশ মনে না করে ব্যক্তিগতভাবে মাঝেমধ্যে পড়তে পারে।
১৮
অজুতে এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বে অপর অঙ্গ ধোয়া
অজুতে এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বে অপর অঙ্গ ধোয়া সুন্নাত। (ফাতাওয়ায়ে শামী ১/১২২)
১৯
অজুর অঙ্গগুলো তিনবারের চেয়ে বেশি ধোয়া সম্পর্কে
অজুর অঙ্গগুলো তিনবার ধোয়া সুন্নত।
ক- তবে যদি মাঝেমধ্যে সন্দেহ দূর করার জন্য ৩ বারের বেশি ধোয় -যেমন কিছু অংশ ধোয়া বাকি রয়ে গেল কিনা- তাহলে জায়েয।
খ- কেউ যদি এই বিশ্বাসে তিনবারের বেশ ধোয় যে, যত ধুবে তত বেশি সওয়াব, তাহলে বিদআত।
গ- বিনা কারণে তিনবারের বেশি ধুলে সেটা অন্তত মাকরুহের তানজিহি হবে। ইমাম নববী বলেন কারাহাতের বিষয়ে ইমামদের ইজমা রয়েছে। এমনকি অপচয়ের কারণে হারামও হতে পারে।
(ইবনে মাজাহ ৪২৫, আবু দাউদ ১৩৫, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ১/১৫১, ফাতাওয়ায়ে শামী ১/৩৩২)
২০
অজুর অঙ্গগুলো কোন দিক থেকে ধোয়া শুরু করবে
অজুর অঙ্গগুলো যে কোন দিক থেকে ধোয়া শুরু করতে পারে। সব ভাবেই জায়েজ। তবে সুন্নত হল, চেহারা উপরের দিক থেকে, হাত ও পা আঙ্গুলের দিক থেকে শুরু করা। কুরআনের আয়াত ও হাদিস দ্বারাও তা বোঝা যায়। (ফাতাওয়ায়ে শামী ১/২২৩)
২১
মাথা মাসহের সঠিক নিয়ম
মাথা মাসাহের দুটি নিয়ম কিতাবে পাওয়া যায়। যে নিয়মটা বেশি প্রচলিত তা মুনয়াতুল মুসল্লি, কাজীখান ইত্যাদিতে এসেছে যে, উভয় হাত ভেজানোর পর কনিষ্ঠা, অনামিকা ও মধ্যমা এই তিনটি আঙ্গুল মাথার অগ্রভাগ থেকে ঘাড় পর্যন্ত টেনে নিবে। এ সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীকে আলাদা রাখবে। তারপর হাতের তালু দিয়ে মাথার দুই পাশ মাসাহ করতে করতে ঘাড়ের দিক থেকে মাথার অগ্রভাগ পর্যন্ত আসবে। তারপর তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে কানের ভেতরে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের বাইরে মাসাহ করবে।
ইবনুল হুমাম র. বলেছেন, لا أصلَ له في السنة এই নিয়ম হাদিস সমর্থিত নয়। বরং মাসনূন পদ্ধতি হলো সমগ্র হাতের পাতা (হাতের আঙ্গুল ও তালু) মাথার অগ্রভাগ থেকে এমনভাবে ঘাড় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে যাতে সমগ্র মাথা বেষ্টন করে নেয়। একইভাবে আবার ঘাড় থেকে মাথার অগ্রভাগ পর্যন্ত হাত টেনে আনবে। কান মাসাহের পদ্ধতি আগেরটার মতই। এই নিয়মকে প্রাধান্য দিয়েছেন আল্লামা ইবনুল হুমাম, যাইলাঈ, ইবনে আবেদীন শামী, তাহতাহাভী প্রমুখ। হাদিসেও এই নিয়মের ইশারা পাওয়া যায়…
যারা প্রথম পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, তাদের যুক্তি ছিলো, সমগ্র হাত শুরুতেই ব্যবহার করে ফেললে তা ব্যবহৃত (মুস্তামাল) হয়ে যায়, আর ব্যবহৃত পানি দ্বিতীয়বার ব্যবহার করে ওযু করা যায় না। এর উত্তরে ইবনুল হুমাম র. বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত পানি এক অঙ্গে প্রবাহিত হতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তা ব্যবহৃত হয় না। আলাদা হওয়ার পর ব্যবহৃত গণ্য হয়। যেমন মুখ ধোয়ার সময় পানি চেহারার উপরের অংশ থেকে গড়িয়ে নিচে পড়ে। হাত ধোয়ার সময় পানি হাতের কবজি থেকে গড়িয়ে কনুই পর্যন্ত আসে।”
প্রশ্ন হতে পারে, যখন মাথা থেকে হাত উঠিয়ে কান মাসহ করতে যাবে তখন তো তা ব্যবহৃত হয়ে যাবে? এর উত্তর হলো, কান কোন আলাদা অঙ্গ নয়, রাসূল সা. বলেছেন الأذنان من الرأس কান মাথারই অন্তর্ভুক্ত। (সহিহ বুখারি ১৯২, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, ফাতাওয়ায়ে দারুল ১/১৫৮, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/৭, ফাতহুল কাদির ১/২০, হাশিয়াতু তাহতাহাভী আলা মারাকিল ফালাহ ৭২)
২২
মাথা কতটুকু মাসহ করবে
উত্তম হলো, সমগ্র মাথা মাসাহ করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র মাথা মাসাহ করতেন। এক চতুর্থাংশ মাসহ করলেও অজু হয়ে যায়। (সুনানে নাসাই ১০২, শারহু মায়ানিল আসার ১/৩০)
২৩
অজুর ক্ষেত্রে এক হাত ব্যবহার করা
অজুর ক্ষেত্রে উভয় হাত ব্যবহার করা সুন্নত। তবে এক হাত ব্যবহার করলেও অজু হয়ে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ১/১৫৭)
২৪
জামাত শেষ হওয়ার উপক্রম হলে অজুর সুন্নত ছেড়ে দিবে কিনা
জামাত শেষ হওয়ার উপক্রম হলেও অজু পরিপূর্ণভাবে করবে, অর্থাৎ শুধু অজুর ফরজ পালন করে সুন্নত সমূহ ছেড়ে দেবে না। যদিও জামাত ছুটে যায়। (বুখারি ৪৫৮, ফাতাওয়া শামী ১/১২১)
২৫
ব্যথায় চোখ থেকে পানি পড়লে অজু ভাঙবে কিনা
চোখে ব্যথা হলে অথবা কোন খোঁচা লাগার পরে যখম হয়ে পানি পড়লে অজু ভাঙবে কিনা – এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। ইবনুল হুমাম র. যে মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন তা হলো, যদি পানির রঙ পরিবর্তন না হয়ে থাকে তাহলে ওযু ভাঙবে না। তবে এমতাবস্থায় অজু করা মুস্তাহাব। আর রঙ পরিবর্তন হয়ে গেলে অজু ভেঙে যাবে। (ফাতহুল কাদির ১/১৮৫)
২৬
ব্যথার কারণে আসা চোখের পানি কি নাপাক
মূলনীতি হল যা শরীর থেকে বের হওয়ার কারণে ওযু ভেঙ্গে যায় তা নাপাক। অতএব ব্যথার কারণে আসা চোখের পানি – রঙ পরিবর্তন না হয়ে থাকলে পাক। আর রঙ পরিবর্তন হয়ে গেলে নাপাক। (প্রাগুক্ত)
২৭
সতর খুললে কি অজু ভেঙ্গে যায়
সতর খুললে ওযু ভাঙ্গে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী ১/৪০৮)
২৮
লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে অজু করতে হবে কিনা
লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওযু ভাঙে না। তবে লজ্জাস্থান স্পর্শের পর ফুকাহায়ে কেরাম হাত ধুয়ে নেওয়া মুস্তাহাব বলেছেন। (মুসনাদে আহমাদ ২৬/২১৪, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৩)
২৯
স্বামী স্ত্রীর লজ্জাস্থান একত্রিত হলে অজু ভাঙবে কিনা
স্বামীর লজ্জাস্থানের মাথার অংশ স্ত্রীর লজ্জাস্থানে প্রবেশ করলে গোসল ফরজ হয়ে যাবে। আর বাইরে থাকা অবস্থায় একত্রিত হলে – যদি উত্তেজনা তৈরি হয় তাহলে ওযু ভেঙ্গে যাবে। চাই কিছু বের হোক বা না হোক। উত্তেজনা তৈরি না হলে ভাঙবে না।
সূত্র: ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ১/১৭২
উত্তর লিখেছেন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)
৩০
কোন পদ্ধতিতে ঘুমালে অজু ভেঙে যায়
যে পদ্ধতিতে ঘুমালে মানুষের শরীর এমনভাবে ছেড়ে দেয় বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে যে বায়ু বের হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যেমন চিৎ বা কাৎ হয়ে ঘুমানো অবস্থায় এবং এমন কোন জিনিসের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমানো অবস্থায় যা সরিয়ে ফেললে সে পড়ে যাবে। (ফাতাওয়া শামী ১/১৪১)
৩১
নাক থেকে বের হওয়া জমাট রক্ত অজু ভঙ্গের কারণ কিনা
নাক থেকে জমাট রক্তের পিণ্ড বের হলে ওযু ভাঙে না। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/১১)
৩২
অজুর অবস্থায় ইস্তিঞ্জা (লজ্জাস্থান পরিষ্কার) করলে অজু ভাঙবে কিনা
অজু অবস্থায় ইস্তিঞ্জা (লজ্জাস্থান পরিষ্কার) করলে অজু ভাঙবে না। তবে যৌনাঙ্গ স্পর্শের পর ওযু করা মুস্তাহাব। কেননা ইমাম শাফেঈ র.এর মতে যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে ওযু ভেঙ্গে যায়। (ফাতাওয়া শামী ১/১৪৮)
৩৩
বায়ুর সন্দেহ হলে অজু করতে হবে কিনা
বায়ু বের হয়েছে কিনা এমন সন্দেহ হলে ওযু ভাঙ্গবে না। (বুখারী, ১৩৭ নং)
৩৪
অজু করেছে কিনা সন্দেহ হলে করণীয়
কেউ ওযু করেছে কিনা মনে করতে না পারলে তার করণীয় ওযু করে নেয়া। কেননা এখানে হদস নিশ্চিত এবং তাহারাত অনিশ্চিত। অতএব নিশ্চিতের উপর হুকুম।
৩৫
অজুর পর শুকনো অংশে পানি প্রবাহিত করতে হবে
অজুর পর যদি কেউ তার পায়ের কিছু অংশ শুকনো দেখতে পায়। তাহলে সেই অংশ তাকে ধুতে হবে। ভেজা হাত মুছে আর্দ্র করে নেয়া যথেষ্ট নয়। কেননা পা – ধোয়ার অঙ্গ। মাসহের অঙ্গ নয়। অতএব এখানে মাসহ শুদ্ধ হবে না। বরং সেই শুকনা অংশে পানি প্রবাহিত করতে হবে। ( ফাতাওয়া শামী ১/১৫৯)
৩৬
নামাজে উচ্চস্বরে হাসলে অজু ভাঙবে কিনা
রুকু-সেজদা বিশিষ্ট নামাজে উচ্চস্বরে হাসলে ওযু ভেঙ্গে যায়।
(দারাকুতনী, ৫৭৮ নং, ইমাম নববি বলেছেন, সকল মুহাদ্দিস এই হাদিসকে দূর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ১/১৯২)
লিখন: উমর ফারূক তাসলিম (ফিকহে হানাফী অনুসারে)