সাকিব আল হাসান: নন্দিত অথবা নিন্দিত নরকে

গুটিবাজি ও ধান্ধাবাজির চরম সীমায় অবস্থান করা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষের বিপুল ভালবাসা পাওয়া একজন ব্যক্তি ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু কি সে এত ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য ছিল?

#ফিক্সিং করতে চেয়েছিল

সাকিব আল হাসান জুয়ারি আগারওয়ালের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ চালাচালি করেছিল। পরে সেইসব মেসেজ ডিলিট করে দেয়। নিশ্চয়ই সেখানে এমন কিছু ছিল যা সে ডিলিট করতে বাধ্য হয়েছে।

আইসিসির অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, জুয়ারিকে সে লিখেছিল first এটা সাংকেতিক ভাষা। যার দ্বারা বোঝানো হয়, প্রথমে সাক্ষাৎ করতে চাই।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই ঘটনার পরও সে দুদকের ব্র‍্যান্ড এম্বাসেডর ছিল। এবং অবুঝ বাঙ্গালী তার পেছনে ছোটা বন্ধ করেনি।

সে অনেক সিনিয়র একজন ক্রিকেটার। সে এমসিসির মেম্বার ছিল -যারা ক্রিকেটের আইন তৈরি করে- সে জানতো, জুয়ারীর কথা গোপন করলে শাস্তি হবে, তবু সে গোপন করেছিল। তারমানে স্পষ্ট যে, টাকার কাছে সে দেশের মানুষের আবেগ বিক্রি করে দিয়েছিল।

#মিথ্যা কথা

সাকিব বলেছিল, টেস্ট থেকে সবার শেষে অবসর নিবে। কিন্তু টেস্ট থেকে সে আগে অবসর নিয়ে নিয়েছে। অনেক বছর ধরেই সে টেস্ট আসলেই কোন বাহানা করে ছুটি নিত।

#ক্রিমিনাল

শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিতে তার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে।

#হিংসা

তামিমের সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতাবশত সে দাবী করেছিল, আনফিট অবস্থায় খেলা দেশের সাথে বেইমানি। অথচ সে নিজে বহুবার আনফিট অবস্থায় খেলেছে।

#দেশের মাটি থেকে বিদায় নেয়ার মিথ্যা আবেগ

সাকিবকে যারা চিনে, বুঝে, তারা বলতে পারবে, সাকিবের এই দেশ বা দেশের জনগণের প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নাই। দেশের মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ারও তার খুব একটা আগ্রহ থাকার কথা না। বহুবছর আগেই বাইরের লীগে খেলার “ছাড়পত্র” না পাওয়ায় সে অবসরের হুমকি দিয়েছিল।

তাছাড়া সে একেবারে তো বিদায় নিচ্ছে না, ওয়ানডে খেলা চালিয়ে যাবে।

অতএব সে যখন ওয়ানডে থেকে অবসর নিবে তখনই তো ফাইনাল অবসর। তখন সে দেশের স্টেডিয়াম থেকে বিদায় নেওয়ার আবদার করতে পারত।

আসলে সে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে বিচার থেকে মুক্তি পেতে চাইছিলো।

সরকারেরও উচিত ছিলো গেম খেলা; তাকে দেশে আসতে দেওয়া। তারপর দেশত্যাগে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা।

যদি তাকে দেশে আসতে দেওয়া না হয়, তাহলে বিচার কিভাবে করবে।

#সাকিব আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডে ভাল খেলোয়াড় নয়

বাংলাদেশে কখনো আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডে ভাল খেলোয়াড় আসেনি প্রাইম টাইমের মুস্তাফিজ ছাড়া। এমনকি সাকিবও নয়। তবে সে বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডে অনেক ভাল খেলোয়াড় ছিল।

সাকিব অবুঝ বাঙালিকে পেয়ে আজীবন নিজের ক্রিকেনফো একাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সমৃদ্ধ করে গেছে। আইপিএলে অনেকবার চান্স পেয়েও বিশেষ কিছু করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ও আইপিএল মিলিয়ে ৫৪০ ইনিংসে তার সেঞ্চুরি মাত্র ১৪ টা। অন্যান্য দেশের নতুন প্লেয়ারদের সেঞ্চুরিও এর চেয়ে বেশি।

১৮ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে সাকিবের কয়টা ম্যাচ উইনিং পারফরম্যান্স আছে?

#বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হওয়ার হাকিকত

সাকিব কেন সর্বদা অলরাউন্ডারদের তালিকায় এক নম্বরে থাকে? কারণ অন্যান্য দেশের প্লেয়াররা অলরাউন্ডার হতে চায় না। তারা হয়তো ব্যাটিংকে বেশি প্রাধান্য দেয় অথবা বোলিংকে ।

ম্যাচ জেতায় অরিজিনাল ব্যাটসম্যান ও অরিজিনাল বোলাররা। জেনুইন অলরাউন্ডাররা কিছু ব্যাটিং ও কিছু বোলিং করে নিজের পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করে। তাই একজন স্টোকস, জয়সুরিয়া, ওয়াসিম আকরাম, শন পলক সাকিবের থেকে হাজারগুণ উত্তম।

আর এত যে “বিশ্বসেরা বিশ্বসেরা” করা হয়। বিশ্বে কয়টা দেশ ক্রিকেট খেলে! ফুটবলের মত এতগুলো দেশ খেললে সাকিব বিশ্বসেরা ১০ জনের ১ জনও হতে পারত না।

#কিছু না জিতিয়েও নায়ক

বাংলাদেশ কোনো টুর্নামেন্ট জেতা তো দূরে থাক, ত্রিদেশীয় সিরিজও কোনদিন জিতেনি। মিডিয়ার ও বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের সর্বদা নায়ক দরকার হয়। তাই এরা দুর্বল দলগুলোর সাথে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সকে বড় করে দেখায়, এবং দলের একজনকে নায়ক বানায়। সেই নায়কের ফ্যানেরা অন্য প্লেয়ারকে খোঁচাখুঁচি করে, নিজেদের মধ্যে গালিগালাজ করে। এক সময় তাদের কাছে দেশের চেয়ে প্লেয়ার বড় হয়ে যায়। দেশ হারুক জিতুক ফেভারিট প্লেয়ার ভালো খেলতে হবে। ফেভারিট প্লেয়ার যেদিন খারাপ খেলবে সেদিন দেশের হার প্রত্যাশা করে।

এমনই একজন নায়ক “বাংলাদেশের জান বাংলাদেশের প্রাণ” নায়ক সাকিব আল হাসান।

#বিদ্রোহী চরিত্র বানানোর অপচেষ্টা

সাকিবের ফ্যানেরা সাকিবকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে “বিদ্রোহী চরিত্র” এবং “ট্র‍্যাজিক হিরো” বানানোর বেশ চেষ্টা করে। তার লাত্থি দিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙার চিত্র হয়ে উঠে এর বিজ্ঞাপন। আর এই হিরোর প্রতি সমবেদনা তৈরীর জন্য ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করা হয় নাজমুল হাসান পাপন, হাথুরাসিংহ প্রমুখকে।

কিন্তু পরবর্তীতে পরিষ্কার হয়ে যায় সে বিদ্রোহী নয় বরং ধুরন্ধর ধান্ধাবাজ। ট্রাজিক হিরো নয় বরং ভিলেন।

#বেয়াদবি

সাকিবের নামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটা শব্দ হচ্ছে “বেয়াদবি”। সে তার কলিগ, সাংবাদিক, দর্শক, বস সবার সাথেই কমবেশি বেয়াদবি করেছে।

#ফ্যাসিবাদের দোসর।

নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য তার একটি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার ছিল। এক্ষেত্রে সরকারি দলের চেয়ে ভালো বিকল্প আর কেউ হতে পারত না।

#অমিত প্রতিভা

যদিও সে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের কাতারে আসতে পারেনি। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রমাণ করে যে, তার বিশ্বসেরা হওয়ার যোগ্যতা ছিল। যদিও সেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস বড় করতে পারা উচিত ছিল।

অমিত প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে কোন চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়তে হওয়ায় তার গ্রোথটা হয়নি।

#দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে অসাধারণ

শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে একা দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতানোর যোগ্যতা তার ছিল না। কালেভদ্রে দুএকবার সেটা সে করেছে। কিন্তু সেটা একসিডেন্ট। তবে দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে সে খুব ভালো; ব্যাটিংয়ে এবং বোলিংয়ে। ফিল্ডার হিসেবেও সে ভালো। তবে ক্যাপ্টেন্সি এলোমেলো ধরনের।

#রাজপুত্র থেকে ঘৃণার পাত্র

সাকিবকে মানুষ মাথায় রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু সে পায়ের জুতা হয়ে থাকাকেই বেছে নিয়েছে। সাকিব যা অর্জন করার জন্য ফ্যাসিবাদের অজ্ঞাবাদী হলো, মানুষ তো তাকে এর চেয়ে বেশি দেওয়ার জন্য রাজি ছিল। সে এমপি হতে চেয়েছে। অথচ তার সুযোগ ছিলো সঠিক পথে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার।

লিখন: উমর ফারূক তাসলিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *