তাফসির ও তাবিলের মাঝে পার্থক্য

মুতাকাদ্দিমীন তাফসির ও তাবিল একই অর্থে ব্যবহার করেছেন। বিখ্যাত মুফাসসির মুজাহিদ এবং ইবনে জারির তাবারি র. সহ অনেকের লেখাতেই এমনটা পাওয়া যায়।

মুতাআখরিরীন অনেকেই উভয় শব্দের অর্থে পার্থক্য করেছেন। এবং সংজ্ঞায়ন করতে গিয়ে প্রচুর মতভেদ করেছেন।

আল ইতকানে ও আল ফাউজুল কাবিরে আবু মানসুর মাতুরিদি র.এর সংজ্ঞা এভাবে এসেছে… তাফসির হলো দৃঢ়তা ও নিশ্চয়তার সাথে বলা যে, এটাই এই শব্দের অর্থ এবং এটাই আল্লাহ তায়ালা বুঝিয়েছেন।

যদি এর পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ থাকে তাহলে তা সহিহ তাফসির। অন্যথায় তাফসির বির রায়। পক্ষান্তরে, একটি শব্দে সম্ভাব্য বিভিন্ন অর্থের মধ্য থেকে একটিকে প্রাধান্য দেওয়াকে তাবিল বলে।

কোন কোন মুফাসসিরের মতে, বাক্য বিন্যাস থেকে যে অর্থ বুঝা যায় তা বর্ণনা করাকে তাফসীর বলে। পক্ষান্তরে বাক্য থেকে ইশারার মাধ্যমে যে অর্থ বুঝা যায় তাকে তাবিল বলে। আল্লামা আলুসী তার রূহুল মাআনির মুকাদ্দামায় এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

কারো কারো মতে তাফসির রিওয়াহর নাম ও তাবিল দিরায়ার নাম।

আল্লামা তাকি উসমানী হাফি. তার উলুমুল কোরআনে বলেছেন “কিন্তু বাস্তবতা এই যে, এ ব্যাপারে আবু উবাইদার মতটি সঠিক মনে হয় যে, আসলে এ দুটি শব্দের মধ্যে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। যদি প্রকৃত অর্থে পার্থক্য থাকত, তাহলে সংজ্ঞায়নে এমন গুরুতর মতপার্থক্য থাকত না, কোনো একটি সংজ্ঞার উপর ঐক্যমত্য থাকতো।

এই কারণেই প্রাচীনকাল থেকে আজকের মুফাসসিরীন পর্যন্ত সকলেই এই শব্দদ্বয়কে একই অর্থে ব্যবহার করেছেন।

লিখন: উমর ফারূক তাসলিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *