‘যদি লাইগা যায়’ রাত শবে কদর

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাকপট লটারি সংস্থা পাওয়ারবল ২০১৬ সালে এক ড্রতে প্রায় ৩১৬ কোটি টিকেট বিক্রি করে। (উল্লেখ্য প্রায়ই একজন বহুসংখ্যক টিকিট কেটে থাকে) এ ড্রতে বিজয়ী তিনজনকে ১৯ হাজার ১৯৮ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা (১.৫৮ বিলিয়ন ডলার) পুরস্কার দেওয়া হয়।

বোঝার বিষয় হলো, বিজয়ী একমাত্র টিকেটটি তো ৩১৬ কোটি টিকেটের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে ছিল। কেউ জানতো না কোন সে টিকেট? তবু সম্ভাবনার ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর আলো মানুষকে আশাবাদী করেছে, তারা স্বপ্নের ধাবিত হয়েছে (কেননা তা “নগদ”। কত লোভ আমাদের নগদের প্রতি। কত অবহেলা আমাদের ভবিষ্যতের প্রতি)

অথচ শবে কদরে ক্ষেত্রে ৩১৬ কোটি নয়, আল্লাহ তায়ালা জাস্ট ৫ টা টিকিট ছেড়েছেন। ৫ টা বেজোড় রাত। এর মধ্যেই রয়েছে কাঙ্ক্ষিত বিজয়ী টিকেটটি, যার মূল্য ৮৩ বছর চার মাসের চেয়ে বেশি। কত বেশি? হয়তো ১০০ গুণ! হয়তো ১ লক্ষ গুণ! হয়তো ১ কোটি গুণ! কিংবা হয়তো আল্লাহ তাআলার শান অনুযায়ী কল্পনার ঊর্ধ্বে, গণনার চেয়েও উপরে।

কেউ চাইলে ৫ টি টিকিটই কিনতে পারে, তার বিজয় সুনিশ্চিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ ৫ টি বেজোড় রাতেই এবাদত করতে পারে, তাহলে তার শবে কদর পাওয়া নিশ্চিত।

হে গাফেল হৃদয় সমূহ! উঠো! “দৌড়াও তোমাদের প্রভুর মাগফিরাতের দিকে ও সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি হচ্ছে আসমানসমূহ ও যমীনের সমান”
জেনে রাখো, লাইলাতুল কদর যেমন আসবে, আবার চলেও যাবে। তুমি জাগ্রত থাকো অথবা ঘুমিয়ে থাকো: উভয় অবস্থায়ই চলে যাবে। কিন্তু সুবহে সাদিক হওয়ার সাথে সাথে একদল মানুষ তোমার থেকে “হাজার মাসের চেয়ে বেশি” এগিয়ে যাবে।

হয়ত তোমার সহকর্মী। হয়ত মাগরিব তোমরা এক কাতারেই পড়েছো। কিন্তু ফজরের সময় তার আর তোমার মধ্যে শত বছরের দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে, তুমি টেরই পাচ্ছো না। আখিরাতে সে হাসবে, আর তুমি অনুতাপের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবো।

প্রিয় পাঠক! সময় এসেছে বসে হিসাব মিলানোর যে, কে কতটি রমজান পেয়েছি। কতগুলো সুবর্ণ সুযোগ এ পর্যন্ত মিস করেছি। আমাদের উচিত অতীতের জন্য আফসোস করা এবং ভবিষ্যৎকে গনিমত মনে করা।

আসুন, রমজানের শেষ দশকে আমরা সকল দুনিয়াবী ব্যস্ততা থেকে বিছিন্ন হয়ে যাই। সুযোগ হলে এতেকাফে বসি। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কল ব্যতীত ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করি। বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করি, দরুদ পড়ি…

লিখন: উমর ফারূক তাসলিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *