কওমি জামাত কি মিলাদুন্নবী সা. পালন করে না? করে। ১২ই রবিউল আউয়ালে মাদ্রাসা বন্ধ রাখা, রবিউল আউয়াল মাসে জুমার বয়ানে রাসূল সা.র সীরাত আলোচনা করা, মাসব্যাপী বইমেলা করা, শিল্পীগোষ্ঠীগুলোর নাতে রাসূল রিলিজ করা, ১২ই রবিউল আউয়ালে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখে পোস্ট করা – মিলাদুন্নবী পালন ছাড়া আর কী?
এমনকি এইমাসকে কেন্দ্র করে সীরাতুন্নবী অনুষ্ঠান করাও আসলে মিলাদুন্নবী পালন।
মিলাদুন্নবী পালনের জন্য আলাদা ট্যাগ বা ঘোষণা দেয়া জরুরি না। রবিউল আউয়াল মাসে নবি সা. কেন্দ্রীক যেকোনো আমলই মিলাদুন্নবী পালন। যদি না তা অন্য মাসেও করা হয়।
এটা বোঝা কঠিন নয় যে, উপরুল্লোখিত সকল কার্যক্রম এইমাসে রাসূল সা. জন্ম হয়েছে বলেই করা হয়। আর এটাই জন্মদিন পালন।
কোনো কোনো আলেম বলে, এইমাসে আমরা সীরাত আলোচনা করবো, মিলাদ নয়। কেননা সীরাতের ভেতর মিলাদ অটোমেটিকলি আছে। কিন্তু মিলাদের ভেতর সীরাত নেই। যেভাবে ১ টাকার ভেতর ৫ টাকা নেই। কিন্তু ৫ টাকার ভেতর ১ টাকা আছে।
আমার কথা হলো, মিলাদ কি সীরাতের পার্ট নয়? শুধু মিলাদ নিয়ে আলোচনা করলে কি নবীপ্রেমে ঘাটতি হয়? পুরো সীরাত কি এক বসায় আলোচনা করতে হবে?
আর এই কথাও অসত্য যে, মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে শুধু রাসূল সা.র জন্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়। সঠিক হলো, মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে পুরা সীরাতুন্নবীই আলোচনা করা হয়।
কোনো কোনো আলেম বলে, মিলাদ অনুসরণীয় নয়। সীরাত অনুসরণীয়।
আমি বলবো, যে রাসূল সা.কে মুহাব্বাত করে সে রাসূল সা.র জীবনের প্রতিটি পার্ট আলোচনা করতে ও শুনতে চাইবে। এবং সওয়াবও পাবে। সকল আলোচনা অনুসরণীয় হওয়ার প্রয়োজন নেই।
কুরআনে, ঈসা, মূসা ও ইউসুফ নবীর জন্মের সময়কার আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে কী আছে অনুসরণের? ইতিহাসের কিতাবের সকল আলোচনা কি অনুসরণীয়? আর শামায়েলের হাদীসগুলো? এসব কি ফায়দাহীন?
পবিত্র কুরআনে নবীদের অনেক পার্সোনাল আলোচনা এসেছে৷ যেগুলো হুবুহু অনুসণীয় নয়। কিন্তু সেগুলো আলোচনা করলে মানুষের কোনো না কোনোভাবে অবশ্যই আলোকিত হয়।
মিলাদুন্নবী রাসূল সা. নিজেই পালন করেছেন। এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সা. আপন জন্মদিনে রোজা রাখতেন।
যাইহোক, বোঝা গেলো মিলাদুন্নবী কওমি ও বেরলভি উভয় ধারার আলেম পালন করে থাকে। সুতরাং কোনো কোনো কওমি আলেমের এই দাবি “আমরা মিলাদুন্নবী পালন করি না” ভুল। সুতরাং এবিষয়ে ইখতিলাফ সময়ের অপচয়। তবে তা ঈদ কিনা এবং তা পালন করার পদ্ধতি নিয়ে যে ইখতিলাফ রয়েছে, তা যৌক্তিক।