কওমি অঙ্গনে মাদানি নেসাব যে সংস্কার এনেছে তা শুরু থেকেই উলামা তুলাবা মহলে সাড়া ফেলেছে। দিন যত গড়িয়েছে, মানুষের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমান্বয়ে মাদানি নেসাবের মাদ্রাসাগুলো ডালাপালা মেলে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই নেসাবের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে সৌভাগ্যের বিষয়, মাদানি নেসাবের স্রষ্টা এখনো জীবদ্দশায়। তিনি নিরবে নিভৃতে ছুটে চলছেন মানজিলপানে।
কিন্তু একটা বিষয় শুভাকাঙ্ক্ষী হিশেবে আমাদের পীড়া দেয়। মাদানী নেসাবের একমাত্র অনুশীলনকেন্দ্র যেন মাদ্রাসাতুল মাদিনা। অন্যান্য মাদ্রাসাগুলো কোনো দিক দিয়েই তার ধারে কাছে নেই। এদের অনেকে মাদ্রাসাতুল মাদিনার মৌলিক চিন্তা ও সংস্কারগুলো সম্পর্কে অবগত কিনা তা-ই সংশয়পূর্ণ।
আদীব হুজুর শুধু মাদ্রাসাতুল মাদিনা নিয়ে মনোযোগী। অন্য মাদ্রাসাগুলোর ব্যাপারে তার কোনো পরিকল্পনা চোখে পড়েনি৷ এবং তিনি কোনো মাদ্রাসার তত্ত্বাবধান বা দিকনির্দেশনার সাথে যুক্ত আছেন বলেও মনে হয় না। তাই এত এত ইতিবাচকতার পরও মাদানি নেসাবের বদনাম ঘুচেনি। যেখানে মাদ্রাসাতুল মদিনার ছাত্রদেরকে বলা হয় বিনয়ের প্রতীক। সেখানে মাদানি নেসাবের অন্যান্য ছাত্রদেরকে কেউ কেউ বেয়াদব বলে আখ্যায়িত করে। এ যেন আকাশ পাতাল ব্যাবধান।
অনেকে মাদানি নেসাব নাম ব্যবহার করে ঠিকই। আসলে জগাখিচুরি নেসাব চালায়। নেসাব বা সিলেবাস ছাত্রদের সমগ্র যিন্দেগীর উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। তাই এটা প্রবর্তন বা পরিবর্তনের জন্য দরকার হয় প্রচুর অভিজ্ঞতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যোগ্যতা। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই বাসা একটা ভাড়া নিয়ে নিজের মনমতো সিলেবাস তৈরি করছে। এই সিলেবাসের ফলাফল কী? ছাত্রদের উপর প্রভাব কেমন? সে বিষয়ে তারা কোন হিশাব নিকাশ করে না।
এদের উচিত ছিল যে কোনো একটি প্রতিষ্ঠিত নেসাব অনুসরণ করা। সেটা দরসে নেজামি হোক অথবা মাদানী নেসাব। কিন্তু তারা এই দুইয়ের মিশ্রণ তৈরি করে। কেউ আবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নেসাব বাংলাদেশে প্রয়োগ করে। অথচ উভয় দেশের ছাত্রদের মেধা-মনন ভিন্ন। তাদের ভিন্ন সমাজে বসবাস করতে হবে। ভিন্ন পরিবেশ মোকাবেলা করতে হবে। তাই আমদানিকৃত নেসাবের বেলায়ও অংক কষা দরকার ছিল।
মূলকথা হলো, যেহেতু আদীব হুজুর এখনো জীবিত আছেন (আল্লাহ তায়ালা তাঁর হায়াতে বরকত দান করুন) তিনি মাদানী নেসাবের সাইনবোর্ড ব্যবহারকারী মাদ্রাসাগুলোকে তার নেগরানি/নজরদারির ভেতরে নিয়ে আসতে পারেন। মাদ্রাসাগুলোও মাদানী নেসাবের রূপকার হিশেবে তার হস্তক্ষেপ মেনে নিবে। বরং তারা খুশি হবে বলেই মনে হয়। কারণ তারাও নিশ্চয় চাইবে তাদের মাদ্রাসার ছাত্ররা সঠিক শিক্ষা পাক।
এক্ষেত্রে আদিব হুজুর মাদানী নেসাবের মাদ্রাসাসমূহের তালিকা জমা নিতে পারেন এবং মুহতামিমদের জমায়েত করে মাদানি নেসাবের লক্ষ্য উদ্দেশ্য তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষকদের জন্য মাদানী নেসাবের কিতাবসমূহ কিভাবে পড়াতে হবে সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারেন। আসলে চাইলে তিনি অনেক কিছুই করতে পারেন।
লেখক: উমর ফারূক তাসলিম