“গোহত্যা”র অভিযোগের প্রেক্ষিতে হিন্দুদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

হিন্দু ভাইয়েরা! আপনাদের নিকট যেমন গরুর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলাম ধর্মে তেমন না হলেও গরুর বিশেষ অবস্থান ও গুরুত্ব রয়েছে। কেননা গরু আমাদের ইবাদাত পালনে সহযোগী। গরুকে আল্লাহ তায়ালা কুরবানির পশু হিশেবে মনোনীত করেছেন। তাই আমাদের কাছে গরু একটি উৎকৃষ্ট প্রাণী হিশেবে বিবেচিত। আল্লাহর নিয়ম হলো, বান্দার পক্ষ থেকে নিকৃষ্ট কিছু গ্রহণ না করা।

আপনারা গরু ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতি আমাদের নিষ্ঠুর হিশেবে উপস্থাপন করে থাকেন। কিন্তু আদতে ব্যাপারটি তেমন নয়। আমাদের অন্তরেও রয়েছে প্রাণীর প্রতি মমতা। পশু জবাইয়ের সময় আমাদেরও কষ্ট লাগে।

প্রশ্ন হতে পারে মমতা থাকলে জবাই কেন করি? উত্তরে বলবো উৎসর্গ তো প্রিয় জিনিসই করা উচিত। ইব্রাহিম আ.কে আল্লাহ তায়ালা স্বপ্নে তার প্রিয়তম জিনিসটিই কুরবানি করতে বলেছিলেন, অর্থাৎ তার সন্তানকে।

আগেকার যুগে ফসলও কুরবানি দেয়ার বিধান ছিলো। ফসল আমাদের জীবনধারণের মাধ্যম। নিশ্চয়ই সেটা অপ্রিয় না।

আর শুধু প্রিয় জিনিস কেন? আমরা তো নিজের জীবনকেও আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করে থাকি। নিজের জীবনের চেয়ে প্রিয় তো দুনিয়ায় কিছু হয় না।

মুসলমানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কুরবানির পশুর যত্ন নিতে। পশুর যেনো কোনো কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে। অতপর নিজ হাতে কুরবানি করতে, যাতে ত্যাগের কষ্ট টের পাওয়া যায়। যদি মায়া না থাকতো তাহলে কিসের ত্যাগ!

ইসলামে পশুদের কষ্ট দেয়া হারাম। যেসব পশু ক্ষতিকর সেগুলোকে সহজ প্রক্রিয়ায় হত্যা করতে বলা হয়েছে।

আর হালাল পশু  ধারালো ছুড়ি দিয়ে দ্রুত জবাই করতে নির্দেশ করা হয়েছে।

গরুসহ যেসব প্রাণী মানুষের খাদ্য, সেগুলোকে যত্ন করে লালন পালন করা হয়। অত:পর সুন্দর প্রক্রিয়ায় জবাই করা হয়। কিন্তু যেসকল তৃণভোজী প্রাণীকে মানুষ লালন পালন করে না তাদের জীবন কি অবিনশ্বর? না৷ তাদের খায় জঙ্গলের হিংস্র প্রাণীরা। হিংস্র কায়দায়৷ জীবিত অবস্থায় তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ খুবলে।

যদি এদের জবাই না করে সর্বদা লালন পালন করা হয় তবুও কি তারা সর্বদা জীবিত থাকবে? কখনো কি মরবে না? সেই মৃত্যু কি খুব সুন্দর হবে? না। সেই মৃত্যু হবে রোগে শোকে, ধুকে ধুকে।

গরীব পশুপালকরা তো নিজের চিকিৎসাটুকুই ঠিকমতো করতে পারে না। বৃদ্ধ পশুর কী চিকিৎসা করবে? দরিদ্র দেশের সরকারগুলোরও একই দশা। ধনী দেশগুলো যদি বৃদ্ধ পশুদের উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়, সেক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠা নিশ্চিত যে, এত টাকা থাকলে আগে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষদের চিকিৎসা দেন। পরে পশুকে। আর মৃত্যুরোগের তো চিকিৎসাও হয় না।

হিন্দু ভাইয়েরা! দুনিয়ায় লক্ষ লক্ষ প্রজাতির পশু রয়েছে। তারমধ্যে ৬ প্রকারের পশু কুরবানি করা যায়।  ঘটনাক্রমে এগুলোর মধ্যে গরু আপনাদের উপাস্য। কিন্তু তাই বলে আমাদের উপাসনা আপনারা বন্ধ করতে পারেন না।

আপনারা পাঠাবলি দিয়ে থাকেন। যদি নতুন কোনো ধর্ম  এসে পাঠাকে উপাসনা করা শুরু করে৷ তখন আপনারা পাঠাবলি দেয়া বন্ধ করবেন? তাছাড়া আপনারা হনুমান, হাতি, সাপ সহ অনেক প্রাণীকেই উপাস্য বানিয়ে রেখেছেন। মানুষকে তো প্রয়োজনে এগুলোকে হত্যা করতেই হয়। সব দেশেই করে। অথচ এটা নিয়ে আপনারা তেমন সোচ্চার নয়।

আপনারা গোরক্ষক কমিটি বানিয়ে মুসলমানদের ধরে ধরে হত্যা করেন। অথচ এই অধিকার আপনাদের ছিলো না৷ প্রত্যেকে শুধু তার নিজস্ব মালিকানায় থাকা গরুটির যিম্মাদার। সকল গরুর নয়।

আপনার পুকুরের মাছ আমি নিতে পারবো না এটা ঠিক। কিন্তু  আমি বাজার থেকে মাছ কিনে এনে খেলে আপনি বাঁধা দেয়ার কে? সকল মাছ রক্ষার দায়িত্ব আপনার নয়।  আপনি শুধু আপনার পুকুরের জিম্মাদার।

লেখক: উমর ফারূক তাসলিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *