বাংলাদেশের সংবিধানের দৃষ্টি আকর্ষণকারী কয়েকটি ধারা

উপশিরোনাম

পতিতাবৃত্তি সম্পর্কে
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সম্পর্কে
পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে
ধর্ম সম্পর্কে
প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে
কোটা সম্পর্কে
রাষ্ট্রপতির অক্ষমতা সম্পর্কে
রাষ্ট্রপতির বিচারের ঊর্ধ্বে থাকা সম্পর্কে
সাংসদের ভোটের অধিকার সম্পর্কে
শপথ সম্পর্কে
দৃষ্টি আকর্ষিত হওয়ার মতো আরো কিছু ধারা

অনেকেই হুমকি দিয়ে বলে “এ দেশে থাকতে হলে সংবিধান মেনে চলতে হবে।” অন্যথায় কেউ ভারত চলে যেতে বলে, কেউ পাকিস্তান।

কিন্তু সংবিধানে কী আছে, কী নেই – ৯৯% মানুষই তা জানে না: কীভাবে তারা সংবিধানে বিশ্বাস করবে বা পালন করবে?

প্রত্যেকের জানার অধিকার রয়েছে যে, রাষ্ট্রের কাছে তার কী কী পাওনা। কিন্তু সরকারের আইন কানুন প্রচার করার প্রতি কোন আগ্রহ নেই। ফলে অনেক মানুষ শুধুমাত্র এই জন্য বেআইনি কাজে লিপ্ত হয় যে, সে আইন জানতোই না ।

শিক্ষা ব্যবস্থায়ও সংবিধান পড়ানোর ব্যবস্থা নেই (আইন বিভাগ ছাড়া)। অতএব একজন শিক্ষিত মানুষও তার অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। এবং অনেকক্ষেত্রে চাইলেও আইন কানুন পালন করতে পারে না।

আমি ভাসমান দৃষ্টিতে হলেও সংবিধান পড়েছি। এক্ষেত্রে কয়েকটি ধারার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। ধারাগুলো তুলে ধরলাম।

উল্লেখ্য, সংবিধান সাধু ভাষায় রচিত। জনাব আরিফ খান তা চলিত ভাষায় রূপান্তর করেছেন।

পতিতাবৃত্তি সম্পর্কে

“পতিতাবৃত্তি ও জুয়াখেলা বন্ধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে”

মন্তব্য: রাষ্ট্র পতিতাবৃত্তি বন্ধের জন্য কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কী?

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সম্পর্কে

“যে-কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত যে-কোনো দণ্ড বা শাস্তির মার্জনা, বিলম্ব, বিরাম, মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে”

মন্তব্য: রাষ্ট্রপতি দণ্ড মওকুফ করার কে?

রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কে

“প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন”

আরেক জায়গায় লেখা হয়েছে

“ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য
(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন, বিলোপ করা হইবে।”

মন্তব্য: রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে সংবিধানে প্রবিষ্ট করা এরশাদের একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র কোথাও ইসলামকে আলাদাভাবে ট্রিট করে না। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হওয়ার কারণে কোন এক্সট্রা সুবিধা পায় না। এ কারণেই রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠার পর আমি নিরুদ্বেগ ও নিরুত্তাপ ছিলাম।

আমি মনে করি, টকশোতে যখন ইসলামকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে অস্বীকার করা হয়। তখন ইসলামিস্ট অতিথি এই পয়েন্টটা উঠাতে পারে যে, ইসলাম তো রাষ্ট্রধর্ম। অন্য ধর্মগুলো তো তা নয়।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে

“সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের যে-কোনো প্রান্তে নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।”

মন্তব্য: অথচ বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে except isr ael সরিয়ে দিয়েছে হাসিনা সরকার।
পরবর্তী সরকারের প্রতি আহবান থাকবে ফিলি স্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোর। প্রত্যাশা থাকবে except israel ফিরিয়ে আনার।

ধর্ম সম্পর্কে

“প্রত্যেক নাগরিকের যে-কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে। তবে শর্ত হলো, এসব অধিকার চর্চা করতে গিয়ে আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া যাবে না।”

মন্তব্য: এখানে কিছু সমস্যা রয়েছে। (ক) শারঈ দৃষ্টিতে মুসলিম সমাজে অন্য ধর্ম প্রচারের অনুমতি নেই। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এভাবেই জিম্মিদের সাথে চুক্তি করেছিলেন যে, তারা তাদের ধর্ম প্রচার করতে পারবে না।

(খ) প্রত্যেকে “যে কোন ধর্ম অবলম্বন” করতে পারা উচিত নয়। কেননা ইসলামের উপর বড় হওয়া কারো জন্য অন্য ধর্ম গ্রহণের সুযোগ নেই।

(গ) ইসলাম চর্চাকে কেউ “আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিরোধী” মনে করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে

“প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী দায়িত্বভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর নিজ পদে বহাল থাকতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই বাধা হিসেবে কাজ করবে না।”

মন্তব্য: এই আইনটির কারণেই সম্ভবত শেখ হাসিনা এখনো নিজেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দাবী করে।

কোটা সম্পর্কে

“প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ থাকবে।”

মন্তব্য: তাহলে অযৌক্তিক কোটা বাতিলের জন্য এত জীবন কেন খোয়াতে হলো?

রাষ্ট্রপতির অক্ষমতা সম্পর্কে

“৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (৩) নম্বর দফা অনুসারে প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (১) নম্বর দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।

তবে শর্ত হলো, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কিনা এবং দিয়ে থাকলেও কী পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো আদালত এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নের তদন্ত করতে পারবেন না।”

মন্তব্য: তাহলে সেগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়ে দিলেই হয়। রাষ্ট্রপতির পরামর্শ দরকার কী?

রাষ্ট্রপতির বিচারের ঊর্ধ্বে থাকা সম্পর্কে

“রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো প্রকার ফৌজদারি কার্যক্রম দায়ের বা চালু করা যাবে না। তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাবন্দী করার জন্য কোনো আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।”

মন্তব্য: এই আইন যুক্তিসঙ্গত নয়। কোন মানুষ বিচারের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে না।

সাংসদের ভোটের অধিকার সম্পর্কে

“নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে পরে দুটি কারণে তাঁর আসন শূন্য ঘোষিত হতে পারে।
(ক) প্রথমত: তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হয়ে যাবে।(খ) দ্বিতীয়ত: তিনি যদি সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হয়ে যাবে।”

মন্তব্য: অর্থাৎ কোন সংসদ নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবে না। নিজ দলের কোন সিদ্ধান্তকে অপছন্দ হতে পারে না?

শপথ সম্পর্কে

সাংসদ ব্যতীত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও মন্ত্রীদের শপথ বাক্যে সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের কথা রয়েছে। ইসলামিস্টগণ এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে…

“আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।””

দৃষ্টি আকর্ষিত হওয়ার মতো আরো কিছু ধারা

“কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। কারণ না জানিয়ে তাকে আটকে রাখা যাবে না। ওই ব্যক্তিকে তাঁর মনোনীত আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে যেন সে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারে।”

“গ্রেপ্তারকৃত ও পাহারায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া এর বেশি সময় তাকে আটক রাখা যাবে না। গ্রেপ্তারের স্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আনতে যাতায়াত বাবদ যে সময়টুকু লাগে ততটুকু বাদ দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা হিসাব করতে হবে।”

-উমর ফারূক তাসলিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *