তুলনা মানুষকে অসুখী বানায়, যদি সে তুলনা হয় উপর দিকের কারো সাথে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের চেয়ে নিম্নস্তরের লোকেদের প্রতি দৃষ্টি দিতে পারো। তবে তোমাদের চেয়ে উঁচু স্তরের লোকেদের দিকে দৃষ্টি দিয়ো না। কেননা আল্লাহর নি’আমাতকে তুচ্ছ না ভাবার এটাই উত্তম পন্থা। (মুসলিম)
শেখ সাদী রহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার আমি এমন দরিদ্রতায় আক্রান্ত হলাম যে, একটা জুতা কেনারও টাকা ছিল না। আমার মনটা খুব খারাপ হলো। তারপর একটা লোককে দেখলাম যার পা নেই, তখন আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম যে, তিনি আমাকে ভাল রেখেছেন; আমার তো জুতা নেই কিন্তু তার তো পা-ই নেই।
কত মানুষ যে এই তুলনার কারণে আল্লাহর না-শুকরিতে জড়িয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর দেয়া নেয়ামতের অবমূল্যায়ন ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে।
ধনী মানুষ। আল্লাহ তার সকল প্রয়োজন পূরণ করছেন। কিন্তু হয়তো কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে তাই সে অসন্তুষ্ট। হাহুতাশ করছে। অভিযোগ করছে।
গরীব মানুষেরাও না-শুকরিতে আক্রান্ত। যে দুই বেলা খেতে পারছে সে ওই ব্যক্তিদের প্রতি লক্ষ্য করছে না, যারা না খেয়ে মারা যাচ্ছে। এমন মানুষ খুঁজলে মধ্যপ্রাচ্যে এবং আফ্রিকায় অনেক পাওয়া যাবে, যারা একবেলাও ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না।
কিছু মানুষ সামান্য অসুস্থতাতেই পর না-শুকরি করছে। অথচ আমি এমন একজন মানুষের কথা জানি, যিনি ৪০ বছর ধরে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। অথচ তার ভিতরে কোন না-শুকরি নেই। সে উদ্যমী। শুয়ে শুয়ে আবুল হাসান আলী নদভী রাহিমাহুল্লাহর ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين কিতাবের ইংরেজি তরজমা করে ফেলেছে। তাছাড়া আইয়ুব আঃ এর ধৈর্যশীলতার কথা তো সবারই জানা।
অনেক স্ত্রী নিজের স্বামীকে নিয়ে অসন্তুষ্ট। কারণ অন্যের স্বামীকে সে খুব ইনকাম করতে দেখে। কিন্তু সে ভেবে দেখে না যে, কত মেয়ে স্বামীবিহীন জীবন কাটাচ্ছে। যেকোনো কারণে তাদের বিয়ে হয়নি। কেউ নেই তাদের আর্থিক সহায়তা করার মতো। একাকী, দরিদ্রতায় জীবন যাপন করছে। তেমনিভাবে অনেক স্বামী নিজের স্ত্রীকে নিয়ে অসন্তুষ্ট।
এই না-শুকরির জন্য দায়ী তুলনা। তাই আমাদের তুলনা বর্জন করতে হবে। তাহলে আমরা আল্লাহর নেয়ামতের নাশুকরি থেকেও রক্ষা পাবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহতালা বলেছেন “যে আমার নাশুকরি করবে আমি তাকে কঠিন শাস্তি দেব।” (সূরা ইব্রাহিম)
লিখন: উমর ফারূক তাসলিম