নাস্তিক: মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে একদম শূন্য থেকে। একসময় কিছু ছিলো না, এরপর কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন ঘটে কিছু জিনিস তৈরি হয়। তারপর বিগব্যাং ঘটে মহাবিশ্ব আজকের অবস্থানে এসেছে। একে বলে নাথিংনেস।
আস্তিক: কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশন কী?
নাস্তিক: কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশন অনুযায়ী, সৃষ্টির শুরুর দিকে যে শূন্যস্থান ছিল। তার ভেতর ছিলো একধরনের শক্তি। সেই শক্তি থেকে তৈরি হয় পদার্থ এবং প্রতিপদার্থ।
আস্তিক: কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন কেন ঘটলো? যে স্থান-কালে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন ঘটেছে তা কে তৈরি করলো? শূন্যের ভেতর যে শক্তি ছিলো তার স্রষ্টা কে? কেননা প্রতিটি শক্তির পেছনে আরেকটি শক্তি থাকা জরুরি। আর আপনার তো মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বের অবস্থা বলার কথা। অথচ যে শূন্যতার কথা বলছেন তা মহাবিশ্বের ভেতরের অবস্থা।
নাস্তিক: এরিস্টটল বলেছেন, প্রকৃতি শূন্যতাকে একদম পছন্দ করে না। প্রকৃতি শূন্যে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন ঘটিয়ে বস্তু তৈরি করে।
আস্তিক: প্রকৃতি কে? তার পছন্দ এমন হওয়ার কারণ কী? তাছাড়া নাথিংনেস সত্য হয়ে থাকলে আরো প্রচুর বিগব্যাং হওয়ার কথা। আরো অনেকগুলো মহাবিশ্ব তৈরি হওয়ার কথা। তেমন কোনো প্রমাণ আছে?
নাস্তিক: আপনি বলতে চাইছেন ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন? তাহলে বলুন সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে? সৃষ্টিকর্তার আগে কী ছিলো?
আস্তিক: সৃষ্টিকর্তার সর্বদাই ছিলেন। তার আগে কিছুই ছিলো না। তিনি অনাদি।
নাস্তিক: প্রমাণ কী?
আস্তিক: আমাদের অস্তিত্বে আসাই তার প্রমাণ। মহাবিশ্ব বিদ্যমান থাকাই তার প্রমাণ।
নাস্তিক: কীভাবে?
আস্তিক: উদাহরণ দেই, আপনি জেনে থাকবেন ২০১৯ সালে ভারতের বিমান বাহিনী পাকিস্তানে ঢুকে বোমা নিক্ষেপ করেছিলো। পাকিস্তান একটি মিগ ২১ ডাউন করে। এবং ধরা পড়ে পাইলট অভিনন্দন।
তো পাইলটদের বোমা হামলার জন্য কার অনুমতি নিতে হয়েছিল? নিশ্চয়ই বিমান বাহিনীর উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তার। তাকে কে অনুমতি দিয়েছিল? বিমান বাহিনীর প্রধান। তাকে কে অনুমতি দিয়েছে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে কে অনুমতি দিয়েছে? প্রধানমন্ত্রী মোদি। এক জায়গায় এসে থামতে হবে।
কিন্তু যদি না থামেন। তাহলে মোদিকে আরো উপরের কারো থেকে অনুমতি নিতে হবে। তাকে আরো হাইয়ার অথরিটি থেকে। এভাবে অসীম পর্যন্ত চালিয়ে নিলে কখনোই বোমা হামলার অনুমতি পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, বোমা হামলা হয়েছে। সুতরাং এখানে কারো না কারো অনুমতি বা সিদ্ধান্ত আছে।
আপনাকে একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি, আচ্ছা আপনি গতমাসে বেতন পেয়েছেন?
নাস্তিক: হ্যাঁ,
আস্তিক: আপনার বস আপনাকে যে টাকাটা বেতন হিশেবে দিয়েছে তা তাকে দিয়েছে আরেকজন। তাকে আবার আরেকজন। এভাবে অনেক হাত পেছনে আসলে বাংলাদেশ ব্যাংককে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার তৈরিকারক। কিন্তু যদি আপনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার তৈরিকারক নয়, বরং তাকেও কেউ দিয়েছে। এভাবে পেছনে যেতে থাকলে মহাকালের অসীম গহব্বরে হারিয়ে যাবেন। আপনার হাতে টাকা আসাও মিথ্যা হয়ে যাবে। যদি আপনার হাতে টাকা এসে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই প্রথমে কেউ তা দিয়েছে।
মহাবিশ্বের সৃষ্টির বিষয়টা এমনই। আল্লাহ এর সৃষ্টিকর্তা। যদি বলেন আল্লাহর সৃষ্টিকর্তা কে? যদি কারো নাম আসে তখন বলবেন তার সৃষ্টিকর্তা কে? এভাবে পেছনে যেতে থাকবেন। প্রথমকে আর খুঁজে পাবেন না। প্রথমকে খুঁজে না পেলে আমাদের অস্তিত্ব মিথ্যা হয়ে যায়। যেহেতু আমরা আছি, তাহলে প্রথমও আছেন।
নাস্তিক: শূন্য থেকে মহাবিশ্ব তৈরী হতে ইশ্বরের দরকার নেই। সবকিছু পদার্থের নিজস্ব নিয়মে হয়েছে। অনেকগুলো পদার্থের মিশ্রনে যখন কোনো পরিবেশ তৈরী হয় তখন পদার্থের নিজ গুণ ও পারিপার্শিক পদার্থগুলোর গুণাবলীর সংমিশ্রনে পদার্থের নিয়মগুলো তৈরী হয়। একটা উদাহরণ দেই। সাগরের পানি তার নিজস্ব নিয়মে সূর্যের তাপে বাষ্পিত হয়। বাষ্প তার নিজস্ব নিয়মে উপরে উঠে ও হয়ে মেঘ হয়ে ভূমিতে পড়ে। তারপর মেঘের পানিতে ঝর্ণা ও নদী সৃষ্টি হয়। সবকিছু এভাবে নিজস্ব নিয়মেই ঘটে।
আস্তিক: নাথিং থেকে সামথিংয়ে যেতে শক্তির প্রয়োজন হয়। কোনো শক্তি বা কারণ ছাড়া নাথিং কখনো সামথিংয়ে রূপান্তরিত হতে পারে না। যেমন চাঁদে থাকা নীল আর্মস্ট্রংয়ের পায়ের ছাপ সম্পর্কে বলা হয়, এই পায়ের ছাপ থেকে যাবে লক্ষ লক্ষ বছর, কারণ সেখানে বাতাস নেই।
ধরেন এক ব্যাক্তি ঢাকায় আছে, কিছুদিন পর তাকে সিলেটে দেখা গেল। তো এই রূপান্তরের পিছনে অবশ্যই কোন শক্তি থাকবে। হয়তো সে নিজে গিয়েছে। অথবা কেউ তাকে ঠেলে পাঠিয়েছে।
নাস্তিক: এই নিয়ম তো ঈশ্বরের ক্ষেত্রেও খাটে। নিশ্চয়ই তার পিছনে কোন শক্তি থাকবে।
আস্তিক: এই নিয়ম আল্লাহতালার ক্ষেত্রে খাটবে না। কেননা তিনি ওয়াজিবুল ওজুদ। অর্থাৎ যার অস্তিত্ব অপরিহার্য। যদি ঈশ্বর অস্তিত্বে আসার জন্য কোন শক্তির মুখাপেক্ষী হন তাহলে তিনি আর ঈশ্বর থাকতে পারবেন না। কেননা ঈশ্বর অমুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন। এটা তার গুণ। যেমনটা সূরা ইখলাসের ৩ নম্বর আয়াতে এসেছে।
যদি ঈশ্বর অস্তিত্বে আসার জন্য কোন শক্তির মুখাপেক্ষী হন তাহলে সেই শক্তির উপর তিনি নির্ভরশীল হয়ে পড়লেন। এবং তিনি হয়ে পড়বেন অন্যের অধীন।
ঈশ্বর প্রতিটি বস্তু অস্তিত্বে আসার কারণ। কিন্তু ঈশ্বরের অস্তিত্বে আসার পেছনে কোন কারণ নেই। এজন্য তিনি অনাদি (আযালি)। যদি ঈশ্বর অস্তিত্বে আসার পেছনে কোন কারণ থাকে তাহলে সেই কারণটা দূরীভূত হয়ে গেলে ঈশ্বর অস্তিত্বহীন হয়ে যাবেন বা মারা যাবেন। যেহেতু ঈশ্বরের অস্তিত্বে আসার পেছনে কোন কারণ নেই। এজন্য তিনি কখনো নি:শেষ হবেন না। এজন্যই তিনি অনন্ত-অসীম (আবাদি)।
লেখক: উমর ফারূক তাসলিম