স্ত্রীর একান্ত ছবি-ভিডিও মোবাইলে রাখা কেমন?

স্বামী কিংবা স্ত্রীর একান্ত ছবি-ভিডিও ধারণের বিষয়টা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এব্যাপারে জায়েয-নাজায়েয জানাই যথেষ্ট নয়। বরং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অবয়ব জ্ঞাত থাকা কর্তব্য। প্রথমত বিনা প্রয়োজনে ছবি তোলা দেওবন্দী মাসলাক অনুযায়ী জায়েয নয়। সুতরাং যারা স্ত্রীর সঙ্গেই থাকছে (কর্মস্থল দূরে নয়)। তাদের তো কোনো প্রয়োজনই নেই ছবি তোলার। বিনা প্রয়োজনে এমন রিস্কি কাজ কেন করবে? রিস্কগুলো কী তা সামনে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

এখন কেউ যদি ডিজিটাল ছবিকে জায়েয মনে করে অথবা গোপন ছবি ধারণ করাকে প্রয়োজন মনে করে তার কাজটি পর্যালোচনা করি।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরাপত্তা। প্রচুর এপস আছে যেগুলোর স্টোরেজের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে। কেননা সেসমস্ত এপস ব্যবহারের পূর্বে গ্যালারি এক্সেস করার অনুমতি চায়। অনুমতি নিয়ে যে তারা চুপচাপ বসে থাকে তা নয়। তথ্যচুরির ঘটনা অসংখ্য। এবং তারা চাইলেই আপনার ছবি-ভিডিওতে ঢু মারতে সক্ষম।

গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটের প্রডাক্ট ব্যবহার করে ছবি-ভিডিও আদান-প্রদান করলে তারা AI দিয়ে নজরদারি চালায় । বিশেষত একান্ত ছবি ও ভিডিওগুলো তারা কখনো কখনো মানবকর্মী দ্বারা পরখ করে। উদ্দেশ্য, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি প্রতিরোধ করা। এবিষয়ের প্রমাণ পাওয়া যাবে নিচের লিংকে (স্পেস কেটে)।
shorturl .at/yBHNW
shorturl .at/iouOY

আরেকটা কনসার্ন হলো, মোবাইল-ল্যাপটপ হারালে ভিডিও বেহাত হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া তালাক হয়ে গেলে ওই ছবি ভিডিওর কী হবে? সাবেক স্বামী কি আমানতের সাথে সব ডিলিট করবে? বেহুদা বিষয় হলো, ডিলিট হওয়া ছবিও কিন্তু ফিরিয়ে আনা যায়। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রবলভাবে ঝুঁকিতে।

কেউ কেউ বলে ভিডিওতে যদি শুধু প্রাইভেট পার্ট থাকে, চেহারা ছাড়া। আর অডিওতে ইফেক্ট ব্যবহার করা হয় তাহলে তো আর নিরাপত্তার ভয় নেই। এই হাস্যকর প্রশ্নের উত্তর হলো: এভাবে এটা যে আপনার স্ত্রী তা হয়ত বোঝা যাবে না। কিন্তু মানুষকে তো প্রাইভেট পার্ট দেখারও সুযোগ করে দেয়া জায়েয নেই। এবং আপনার স্ত্রী ছাড়া অন্য কণ্ঠেও অশ্লীল কথা শোনা বৈধ নয়।

একজন লিখেছে, প্রবাসীদের জন্য পর্ন দেখা থেকে বাঁচতে নিজের স্ত্রীকে অন্যভাবে দেখা ছাড়া উপায় নেই। পর্ন দেখার চেয়ে তো এটাই ভাল। উত্তর: স্ত্রীকে ভিন্নভাবে দেখা এর সমাধান কিনা বিবেচনা করা দরকার। পর্ন দেখা একটা নেশা। সেটা কীভাবে বাদ দেয়া যায় তা চিন্তা করা উত্তম, বিকল্প খোঁজার চেয়ে। আর একজন সম্ভ্রান্ত স্ত্রীলোককে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওই মেয়েদের মত অঙ্গভঙ্গি করতে বাধ্য করা নিচুতা।

আর স্ত্রীকে ওইভাবে দেখার পর কি আগ্রহ কমে যাবে? না আরো বাড়বে। কেননা সে স্ত্রীকে দেখে আগ্রহী হচ্ছে ঠিকই, সঙ্গ তো পাচ্ছে না। তখন হয়ত হাতকে স্ত্রী বানাবে, অথবা নিষিদ্ধ স্থানে যাবে।

এতো গেলো যারা মোবাইল লক রাখতে পারে তাদের কথা। কিন্তু অনেকেই আছে মোবাইল লক রাখতে পারে না। কিংবা একহাতে ব্যবহার করে না। অন্য অনেক হাতে মোবাইল যায়। এদের স্মরণ রাখতে হবে, বর্তমানে মানুষের মাঝে আমানতদারিতা এত কম যে, তারা অনায়াসে লোকের প্রাইভেসি লংঘন করে থাকে।

উপরুক্ত আলোচনা ছিলো, ছবি ও ধারণকৃত ভিডিও সম্পর্কে। তবে অডিও ভিডিও কলের হিশাব ভিন্ন হতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমুর মত এপকে কোনো ইদারা থেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে কলের নিরাপত্তা সম্পর্কে। যদি আশ্বস্ত হওয়া যায় তাহলে এর হুকুম ভিন্ন।

এই আলোচনার পর প্রশ্ন জাগে, তাহলে বিকল্প রাস্তা কী? উত্তর: এর সমাধান গোড়া থেকে করতে হবে। সরকারকে দেশে কর্মস্থল তৈরি করতে করতে হবে। বিদেশের সরকার ও কফিলদের উচিত হবে ম্যাক্সিমাম ৪ মাস অন্তর ওয়ার্কারকে ছুটি দেয়া। শরীয়ত অনুযায়ী ৪ মাসে অন্তত একবার স্ত্রীর শারীরিক হক পালন করা ওয়াজিব, স্ত্রী কর্তৃক গুনাহর আশংকা থাকলে ৪ দিনে একবার। স্ত্রীর অমতে এরবেশি দূরে থাকা যায় না। দেশে যদি মোটামুটি একটা জীবিকার ব্যবস্থা হয় তাহলে সচ্ছলতার আশায় বিদেশে না যাওয়া। আর বিদেশে গেলে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া।

এগুলো সম্ভব না হলে রাসূল সা.র নির্দেশনা অনুযায়ী রোজা রাখা। নফসকে কাবু রাখা, সে নিমিত্তে বুযুর্গানে কেরামের কাছে যাতায়াত করা।

আর ফিকহী হুকুম হলো, দেওবন্দীসহ অধিকাংশ উলামাদের মতে নাজায়েজ। নিরাপত্তার শর্তে কেউ কেউ জায়েয বলেছেন। অধম ধারণকৃত ছবি-ভিডিও এবং লাইভ কলের হুকুম ভিন্ন বলে মনে কর (নিরাপত্তার শর্তে)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *