রোহিংগা নির্যাতনের ইতিবৃত্ত: যে ইতিহাস রক্তে লেখা

ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে রোহিঙ্গা শব্দটির অনেকগুলো রুপ পাওয়া যায়-রোয়াং, রোয়াই, রুহমি ইত্যাদি। আরাকানে প্রধানত বৌদ্ধ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস। ইতিহাসে বৌদ্ধদেরকে মগ ও মুসলিমদেরকে রোহিঙ্গা বলা হয়।

 

রোহিঙ্গাদের সঠিক জনসংখ্যা অজ্ঞাত! কারণ বার্মার  আদমশুমারিতে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত ককরা হয়না। বর্তমানে বার্মার রাখাইন (আরাকান) ও বাংলাদেশে  সর্বাধিক রোহিংগা জনগোষ্ঠীর বসবাস।

 

প্রাচীন আরাকানের রাজধানীর নাম ছিলো ম্রোহাং (রোহাং)। মধ্যযুগীয় আরাকানি রাজকবিগণ  একে রোসাঙ্গ বলে অভিহিত করেছেন।

 

এক বর্ণনা অনুযায়ী প্রস্তর যুগে আরাকানে রাকসা সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস ছিলো। তাদের নামানুসারে  শহরের নামকরণ করা হয় রাক্ষপুরী কিংবা রাক্ষসপুরী। যা পরবর্তীতে বিকৃত হতে হতে রাখাইন হয়ে যায়।

আরাকান রাজ্যের পশ্চিমে কক্সবাজার, উত্তরে ভারত, পূর্বে বার্মা, দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর।

 

আরাকানে মুসলমানদের আগমন

 

আরাকানে মুসলমানদেr আগমনের ইতিহাস দিনক্ষণসহ পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, রাসুল সা. এর জীবদ্দশায় যে সমস্ত আরব বণিকগণ হিন্দুস্তানে আসতেন, তাদের মাধ্যমেই আরাকানে ইসলামের সূচনা হয়।

 

তবে মুসলমানদের স্হায়ী বসবাস শুরু হয় আরো পর।   এসম্পর্কে আরাকানের চন্দ্রবংশীয় রাজপরিবারের সংরক্ষিত ইতিহাস ‘রদজাতুয়ে’-তে একটি বিচিত্র ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। রাজা মহতইং চন্দ্রের রাজত্বকালে (৭৮০-৮১০) আরাকানের উপকূলীয় অঞ্চল রামব্রিতে একটি আরবীয় বাণিজ্যবহর  সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বণিকগণ সাহায্যার্থে রহম রহম বলে চিৎকার করছিলো। অনেক গবেষকের মতে রহম শব্দ থেকেই তাদের বংশধরদেরকে রোহিংগা নামকরণ করা হয়। স্হানীয়রা তাদেরকে সমুদ্র থেকে তুলে এনে আশ্রয় দেয়। তারা তাদের উন্নত চরিত্র দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়।

 

আরবরা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে  আরাকানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা স্হানীয় রমণীদের বিবাহ করে। এভাবেই আরাকানে মুসলমানদের স্হায়ী বসবাস শুরু হয়।

 

কয়েকশ বছরের ব্যাবধানে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে  মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ছোটখাটো একটা শহর গড়ে উঠে। যাকে সুলতান কিংবা সুরতান বলা হত।

কিন্তু চন্দ্রবংশীয় রাজা ষোলচন্দ্র আক্রমন করে সেই শহরটি নিয়ণ্ত্রণে নিয়ে নেয়। এবং শহরের প্রধান ফটকে লিখে দেয় চিত্তগৌং অর্থাৎ যুদ্ধ করা সমীচীন নয়। চিটাগাং শব্দটি সেখান থেকেই এসেছে।

 

আরাকানের প্রখ্যাত গবেষকন (san swe bu) সেন সুয়ে বুর মতে চন্দ্রবংশীয় রাজরা হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলো। তাছাড়া তখনকার মুদ্রায় অংকিত দেবতা শিবও এর প্রমাণ বহন করে। ৯৫৭ খৃষ্টাব্দে তাতারিদের আক্রমণের ফলে চন্দ্রবংশীয় রাজত্বের সমাপ্তি ঘটে।

 

san swe bu এর মত অনুযায়ী বর্তমান রাখাইন বৌদ্ধরা (মগ) নবম শতকের পরে ভারতের মগধ প্রদেশ থেকে আগমন করে।

 

চতুর্দশ শতাব্দিতে আরাকানে ম্রাউক-উ বংশের রাজত্বের সূচনা হয়। এর পটভূমি হলো, ১৪৩০ খৃষ্টাব্দে বার্মিজ রাজা মেংশি আই (Meng tsh wai)আরাকানের উপর আক্রমন করে। আরাকানের রাজা নরমিখলা ভীত হয়ে বাংলার রাজধানী গৌড়ে এসে আশ্রয় নেয়, এবং সাহায্যের আবেদন করে। গৌড়ের রাজা জালালুদ্দিন মতান্তরে নাসিরুদ্দিন শাহ বার্ষিক কর আদায়ের শর্তে সাহায্য করতে রাজি হন। তিনি সেনাপতি ওয়ালি খানের নেতৃত্বে বিশ হাজার সৈন্য প্রেরণ করেন। সেনাপতি ওয়ালি খান বার্মিজ রাজাকে পরাজিত করে নিজেই ক্ষমতা দখল করে বসে। হতাশ নরমিখলা গৌড়ের সুলতানের নিকট পুনরায় সাহায্য প্রার্থনা করে। সুলতান জালালুদ্দিন শাহ নরমিখলার সাহায্যার্থে সিন্ধি খানের নেতৃত্বে পুনরায় ত্রিশ হাজার সৈন্য প্রেরণ করেন। সিন্ধি খান ওয়ালি খানকে পরাজিত করে নরমিখলাকে রাজত্ব ফিরিয়ে দেয়। এবং রাজধানী রোসাঙ্গে (ম্রোহং)  একটি মসজিদ নির্মাণ করে, যার ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান!

 

নরমিখলা সুলাইমান শাহ নামধারণ করে সিংহাসনে বসেন।

১৪৩০ থেকে ১৫৩০ সাল পর্যন্ত ম্রাউক-উ বংশের শাসকরা গৌড়ের এগারজন সুলতানকে কর দিয়েছে।

উল্লেখ্য, তারা মুঘলদের অনুকরণে মুসলিম নাম ধারণ করত ও মুদ্রায় কালিমা খোদাই করত। প্রকৃতপক্ষে আরাকানের ইতিহাসের কোন পর্যায়েই মুসলিম শাসক ছিলো না।

 

১৫৩০ সালে মোঘলদের কাছে বাংলার রাজশক্তির পতন ঘটলে রাজা জেবুক শাহ স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালানা  শুরু করেন। এখান থেকে শুরু হয় স্বাধীন ম্রাউক-উ বংশের শাসন। এসময় দুই কারণে আরাকানে প্রচুর সংখ্যক বাঙ্গালির আগমন ঘটে। প্রথমত বাংলা মোঘলদের অধিকারে যাওয়ার ফলে সেখানকার বুদ্ধিজীবী শ্রেণী নিজেদের ভাগ্যান্বেষণে আরাকান অভিমুখে ছুটতে থাকে। রাজসভায় গুণী ব্যাক্তিদের কদর ছিলো; বিশেষত কবি সাহিত্যিকদের। দ্বিতীয়ত বঙ্গোপসাগরে পর্তুগিজ-মগ জলদস্যুদের তান্ডবে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা আরাকানের দিকে চলে যেতে থাকে। এমনকি মেঘনা নদির মোহনা থেকে রামব্রি পর্যন্ত অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়ে।

ঐতিহাসিক ভ্যান লিন ছোটেন (van lin choten) বলেছেন, এরা ছিলো বন্য জন্তুর মত হিংস্র, উন্মাদ, অশিক্ষিত। দয়া মায়া বলতে কোন কিছু তাদের মধ্যে ছিলোনা।

 

এ সময় সিংহাসন নিয়ে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ শুরু হয়। শাহযাদা শাহ সূজা আওরঙ্গজেবের নিকট পরাজিত হয়ে ১৬৬০ খৃষ্টাব্দের ৩রা জুন ১৫০০ সঙ্গী সহ আরাকানে আশ্রয় নেয়। আরাকানের রাজা থা-থু-ধাম্মা প্রথমে স্বাগত জানালেও কিছুদিন পর শাহ সুজাকে হত্যা তার কন্যা আমেনা বেগমকে বিয়ে করে ও মূল্যবান সম্পদ দখল করে নেয়।

 

এ ঘটনায় আওরঙ্গজেব ক্ষুব্ধ হন, ও বাংলার নবাব শায়েস্তা খানকে আরাকান আক্রমণের নির্দেশ দেন। শায়েস্তা খান আরাকান আক্রমন করে পুরো চট্টগ্রাম দখল করে নেন, এবং মগ-পর্তুগিজ জলদস্যুদের সমূলে নির্মূল করে দেন।

এরপর এক শতাব্দি যাবৎ আরাকানের রাজনীতিতে চরম অস্হিরতা বিরাজ করে।

 

১৭৩১ থেকে ১৭৮২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত মাত্র পঞ্চাশ বছরে তেরজন শাসক পরিবর্তন হয়। ক্ষমতার দ্বন্দে পিষ্ঠ জনগণ  নতুন ক্ষমতায়নের অপেক্ষা করছিলো। এলক্ষ্যে জনৈক ঘা থান ডি(nga than de) বার্মার রাজা ভোদপায়াকে আরাকান দখলের আমন্ত্রণ জানায়।

 

ভোদপায়া আরাকান দখল করে নেয়। এভাবেই দীর্ঘ ছয় হাজার বছরের আরাকানি স্বাধীনতার বিলুপ্তি ঘটে। এটা ছিলো এমন এক ভুল, যার মাশুল তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর দিয়ে যাচ্ছে।

 

অল্পদিনেই রোহিঙ্গা মুসলিমরা টের পেয়ে যায় যে, তারা যেচে যমের মুখে পড়েছে। ভোদপায়া শহরের  খাজাঞ্চিখানা শূন্য করে সমস্ত অর্থকড়ি নিয়ে যায়। কৃষকদের উপর  প্রচুর কর আরোপ করে। দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। অর্ধাহারে অনাহারে অসংখ্য মানুষ মারা যায়।

 

আরাকান থেকে বিশালকায় বৌদ্ধমূর্তি দুর্গমপথে বার্মা টেনে নেয়ার জন্য রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে নিযুক্ত করে। বিখ্যাত আনগিরিপথ পাড়ি দিতে গিয়ে হাজার হাজার রোহিংগা মারা যায়।

 

ইতোমধ্যে ভোদপায়া শ্যামরাজ্য (থাইল্যান্ড)আক্রমন করার ইচ্ছে করে। এলক্ষ্যে ঘা থান ডিকে ৪০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ও ৪০ হাজার সৈন্য দেয়ার নির্দেশ দেয়। বলাবাহুল্য, অভাব অনাটনে বিপর্যস্ত রোহিঙ্গাদের এর সিকিভাগও দেয়ার সামর্থ ছিলোনা। তাই ঘা থান ডি অর্ধেক টাকা দিতে চান।  এতে ভোদপায়া রাগান্বিত হয়ে ঘা থান ডির ছেলেকে হত্যা করে।

 

এরপর রোহিংগাদের উপর নির্যাতন আরো বৃদ্ধি পায়। হাজার হাজার রোহিংগা পালিয়ে কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে আশ্রয় নিতে থাকে। ঘা থান ডিও বাংলায় পালিয়ে আসে। এবং রোহিংগাদেরকে সঙ্গে নিয়ে বার্মিজ সীমান্তে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে। বাংলা তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে। বার্মিজরা রোহিঙ্গাদের আক্রমণ করার জন্য বাংলায় ঢুকে পড়ে। এদিক থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৈন্যরাও রোহিঙ্গাদের উপর হামলা করতে থাকে। তবে বার্মিজরা কোম্পানি শাসকদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের নমনীয়তার অভিযোগ তোলে। এবং হুমকি দিতে থাকে।

 

১৮২৩ খৃষ্টাব্দে প্রথম এংলো-বার্মা যুদ্ধের মাধ্যমে বৃটিশরা আরাকান দখল করে নেয়। যে সমস্ত রোহিঙ্গারা ১৭৮৪ সালে বাংলায় পালিয়ে এসেছিলো, তারা দলে দলে আরাকানে প্রত্যাবর্তন করতে থাকে। এদের সংখ্যা ছিলো কয়েক লাখ।

 

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ১৯৮২ সালের নাগরিক আইনে জান্তা সরকার ১৮২২ সালের পর আরাকানে আগত রোহিঙ্গাদেরকে বাঙ্গালি হিসেবে চিহ্নিত করে। অথচ  ১৭৮৪ খৃষ্টাব্দের পূর্বে এ সমস্ত রোহিঙ্গাদের  বসতভিটা আরাকানেই ছিলো। তারা কেবল বার্মিদের নির্যাতন থেকে আত্মরক্ষার্থে বাংলায় এসেছিলো।

 

বৃটিশদের অধীনে এসেও হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের কপাল কপাল খুললো না। বৃটিশরা নিজেদের ক্ষমতা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক শ্লোগান ছড়াতে থাকে। যেমন Burma for Burmese Only (বার্মা শুধু বার্মিজদের।)

১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তি (জাপান) ব্রিটিশদেরকে পরাজিত করে আরাকান দখল করে নেয়।

 

কী জন্য আল্লাহ মালুম? যে আসে সেই  রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন করাকে দায়িত্ব মনে করে। জাপানের ছত্রছায়ায় মগরা (বৌদ্ধ)রোহিঙ্গাদের উপর ইতিহাসের বর্বতম গণহত্যা সংঘটিত করে।

 

ঐতিহাসিক শিহাবুদ্দিন তালিশ লিখেছেন, মগরা মায়ের কোল থেকে শিশুদের ছিনিয়ে নিয়ে দুই পা দুদিকে টেনে ছিঁড়ে ফেলত। নারীদেরকে ধর্ষণ করার পর ছুড়ি দিয়ে তাদের যৌনাঙ্গ বিকৃত করে দিত। পুরুষদের খন্ডিত মস্তক বর্শার অগ্রভাগে বিদ্ধ করে আনন্দ মিছিল করত। এসময়কার নৃশংসতার বর্ণনা এখনো আরাকানের লোকগাঁথায় পরিলক্ষিত হয়।

 

বিখ্যাত সাহিত্যিক খলিল তার “কারবালা-ই আরাকান” গ্রন্হে গণহত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, মগরা ৩৭৬টি রোহিংগা অধ্যুষিত গ্রাম ধ্বংস করে গোরস্তানে পরিণত করে। বাঁচার আশায় লক্ষাধিক রোহিংগা বাংলার পথে রওয়ানা দেয়। দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে গিয়ে হিংস্র জন্তু ও সাপখোপের কবলে পড়ে প্রায় বিশ হাজার রোহিঙ্গা মারা যায়। জীবিতদের মধ্যে অদ্ভুত পাহাড়ি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কোম্পানি সরকার তাদেরকে রংপুরের সুবীর নগর ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়। পরবর্তীতে  ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স কক্সবাজারে তাদেরকে পুনর্বাসন করেন। কক্সবাজার নামটাও এই ক্যাপ্টেনের নামেই।

 

দু:খজনক ব্যাপার হলো মিয়ানমার সরকার আর কোনদিনই  এদেরকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়নি।

১৯৪৮ সালে ৪ঠা জানুয়ারি ইউনিয়ন অব বার্মা (মায়ানমার) স্বাধীনতা লাভ করে। ব্রিটিশরা ক্ষমতা হস্তান্তরের পূর্বে একটি সংবিধান তৈরি করে। সেখানে রোহিঙ্গাদের অধিকার উপেক্ষা করা হয়।

 

১৯৪৫ সালে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার্থে The general council for burma moslem association গঠিত হয়েছিলো। এই সংস্থাটি সংবিধানের সাতাশি অনুচ্ছেদ সংশোধন করে অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠির ন্যায় পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের দাবী জানায়।  কিন্তুু দাবীটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

 

এই সংস্থাটি ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো। এরা স্বারকলিপি জমাদান, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ অনেক রকম প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু ১৯৬২ সালে সামরিক সরকার আসার পর সব ধরনের আন্দোলনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। কোন সংগঠন দূরে থাক, রোহিঙ্গাদেরকে জাতিগতভাবে নির্মূলীকরণ শুরু হয়ে যায়।

 

১৯৭৮, ১৯৯৩ ও ২০১৩ সালে তিন দফায় কয়েকলাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। অবশ্য তাদের বেশিরভাগকেই বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু গত ৯ম অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গণহত্যার পর তারা বাংলাদেশ সরকারের সাথে কূটনৈতিক আলোচনায়ও বসতে রাজি হচ্ছে না।

এদিকে মিডিয়া ও ত্রাণকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখাইনকে পুরো বিশ্ব থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, শরণার্থীদের নিকট তার কিছুটা বর্ণনা পাওয়া যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, মগরা  এবার চূড়ান্তভাবে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করার মিশনে নেমেছে।

 

লেখক: উমর ফারূক তাসলিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *