কওমি মাদ্রাসার উস্তাজগণের শারীরিক রোগশোকের বিষয়ে প্রচুর খবর পাই। বসে থাকার বাধ্যবাধকতায় কারো কারো পেটও বেরিয়ে আসে। ছাত্রজমানা থেকেই চলাচল, দৌড়ঝাঁপ, কায়িক পরিশ্রমের সুযোগ সীমিত থাকার কারণে একসময় দেহ ডায়বেটিস সহ বিভিন্ন রোগের বসতি হয়ে যায়। বেশিরভাগ উস্তাজগণের চিকিৎসাব্যয় বহন করার মত আর্থিক সামর্থ্যও থাকে না।
এই সমস্যার বিরুদ্ধে অনেকাংশ প্রতিরোধ গড়তে পারে ব্যায়াম। ব্যায়াম শরীরকে সতেজ রাখে। অসুখের বিরুদ্ধে শরীরকে প্রস্তুত করে।
সুস্থতা আল্লাহর অনেক বড় নেয়ামত। সহিহ নিয়তে এই নেয়ামত ধরে রাখাও ইবাদাত। হাদিসে এসেছে
مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا فِي سِرْبِهِ مُعَافًى فِي جَسَدِهِ عِنْدَهُ قُوتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ لَهُ الدُّنْيَا
তোমাদের মধ্যে যে লোক পরিবার-পরিজনসহ নিরাপদে সকালে উপনীত হয়, সুস্থ শরীরে দিনাতিপাত করে এবং তার নিকট সারা দিনের খোরাকী থাকে তবে তার জন্য যেন গোটা দুনিয়াটাই একত্র করা হলো। (তিরমিজি ২৩৪৬, হাসান)
শরীরচর্চা কোনো খারাপ বিষয় না। বর্তমানের একশ্রেণির শরীর প্রদর্শনকারী বেহায়া পুরুষের কারণে শরীরচর্চাকে আমরা খারাপ দৃষ্টিতে দেখবো না। রাসূল সা. রুকানার সাথে কুস্তি লড়েছেন (আবু দাউদ ৪০৭৮, দূর্বল)। রাসূল সা. আইশা রা.র সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। (আবু দাউদ ২৫৭৮, সহিহ)।
ইসলাম শরীরচর্চা, মার্শাল আর্ট, অস্ত্রচালনা ইত্যাদি শেখাকে উৎসাহিত করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة
তোমরা শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী (জিহাদের জন্য) প্রস্তুত থাকো (আনফাল, ৬০)
আর একজন প্রকৃত মুসলিম তো সর্বদা জিহাদের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখবে। বলাতো যায় না কখন ডাক চলে আসে।
আমরা যদি জিহাদের নিয়তে নিজেদের ফিট রাখি, হয়ত এই প্রস্তুতির কারণেই আল্লাহ তায়ালা আমাদের জিহাদের সওয়াব দিয়ে দিবেন।
আল্লাহর দেয়া আমানত এই দেহ। শুধু আল্লাহর পথেই এই দেহ উৎসর্গ করার অনুমতি আছে। বাকি সর্বাবস্থায় দেহের সুস্থতা, সবলতার জন্য প্রচেষ্টা করা উচিত। আল্লাহর দেয়া এই শরীরকে সুস্থ ও মজবুত রাখা আমাদের কর্তব্য।
রাসূল সা. বলেছেন, وان لجسدك عليك حقا
নিশ্চয়ই তোমাদের উপর শরীরেরও হক আছে। (নাসাঈ, ২৩৯১, সহিহ)
তিনি আরো বলেছেন,
المؤمن القوي خير وأحب إلى الله من المؤمن الضعيف
দূর্বল মুমিনের থেকে শক্তিশালী মুমিন বেশি উত্তম ও আল্লাহর কাছে প্রিয় (সহিহ মুসলিম)।
উল্লেখ্য, এই জিমনেসিয়াম প্রস্তাবনা উস্তাজদের জন্য। ছাত্রদের জন্য নয়। ছাত্রদের বিষয়ে এই দূর্বল লেখকের পরামর্শ আলাদাভাবে আসবে ইনশাআল্লাহ।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষই কেন জিমনেসিয়াম করবে?
➤সাধারণ মানের ১টা জিমনেসিয়াম করতেও লক্ষ লক্ষ টাকা লাগে। এছাড়া প্রশিক্ষকেরও প্রয়োজন পড়ে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এটি করা অধিকাংশ শিক্ষকের জন্য অসম্ভব।
➤সকলের জন্য আলাদা আলাদা ব্যায়ামের জায়গা পাওয়া কঠিন।
➤ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়মিত ব্যায়াম করার উদ্দীপনা কম থাকে।
➤মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ব্যায়ামের ব্যবস্থা থাকলে উস্তাজদের ভেতর লজ্জা কাজ করবে না।
লেখক: উমর ফারূক তাসলিম