ইবনুল কাইয়িম র.এর মাদারিজুস সালিকীন (১/৫৪২) থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, কোরআন মাজিদে যেখানে শুধুমাত্র ইস্তেগফার শব্দ এসেছে সেখানে তাওবা এবং ইস্তেগফার উভয়টা উদ্দেশ্য।
যেমন নুহ আলাইহিস সালাম এর বক্তব্য;
اِسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ইস্তেগফার করো। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল। (নূহ ১০)
আর যেখানে উভয় শব্দ এসেছে সেখানে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ উদ্দেশ্য। যেমন সালেহ আলাইহিস সালামের বক্তব্য;
فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُجِيبٌ
তোমরা তার কাছে ইস্তেগফার করো, অতঃপর তার কাছেই তওবা করো। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক নিকটবর্তী, সাড়াপ্রদানকারী। (হুদ ৬১)
ইস্তিগফার হলো শুধু ক্ষমাপ্রার্থনার নাম। তবে তাওবার কিছু শর্ত শারায়েত রয়েছে।
(ক) গুনাহ থেকে তৎক্ষনাৎ বিরত হওয়া
(খ) অতীতের গুনাহর জন্য লজ্জিত হওয়া
(গ) গুনাহ থেকে বিরত থাকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করা
(ঘ) মানুষের উপর জুলুম করে থাকলে তার থেকে ক্ষমা নেওয়া, হক নষ্ট করে থাকলে হক ফিরিয়ে দেওয়া।
ইস্তেগফার প্রধানত পূর্ববর্তী গোনাহর সাথে সম্পৃক্ত। পক্ষান্তরে তাওবা বেশিতভাগ ভবিষ্যতের প্রতিজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত।
ইস্তিগফার সর্বদা জারী থাকা চাই। দিনভর আমাদের দ্বারা কতরকম গুনাহই তো হয়ে যায়, গুনাহ হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ ইস্তিগফার করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন…
اِنَّمَا التَّوۡبَۃُ عَلَی اللّٰهِ لِلَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ السُّوۡٓءَ بِجَهَالَۃٍ ثُمَّ یَتُوۡبُوۡنَ مِنۡ قَرِیۡبٍ
আল্লাহ অবশ্যই সেসব লোকের তাওবাহ কবুল করবেন যারা অজ্ঞতাবশতঃ(১) মন্দ কাজ করে এবং তাড়াতাড়ি তাওবাহ করে (নিসা ১৭)
এমনকি গুনাহ ভবিষ্যতে পুরোপুরি বর্জনের হিম্মত না করতে পারলেও ইস্তিগফার করা উচিত। পাশাপাশি যতদ্রুত সম্ভব হিম্মত করে তাওবাও করে ফেলা উচিত।
লেখক: উমর ফারূক তাসলিম